একবিংশ শতাব্দীতে ধর্মীয় উগ্রবাদ: শান্তি নাকি সংঘাত?
1 min read

একবিংশ শতাব্দীতে ধর্মীয় উগ্রবাদ: শান্তি নাকি সংঘাত?

একবিংশ শতাব্দীর এ পৃথিবীতে আমাদের বসবাস। সভ্যতার বিবর্তনের পথ ধরে বর্তমান মানুষ সভ্য, সাংস্কৃতিক। মানুষ নিজস্ব জ্ঞান, কর্ম এবং চিন্তার জগতে অনেক বেশি উন্নত।

কিন্তু এরপরও রাষ্ট্র, সমাজ ও ধর্মের তর্কে কেন বিদ্বেষ, সহিংসতা ও অরাজকতা?

তৃতীয় বিশ্বের বাংলাদেশ নামক দেশের অবস্থা দেখলে যে কারও মনে হতেই পারে; আমরা সপ্তম শতাব্দীতে বসবাস করছি। ধর্মবিশ্বাসকে কেন্দ্র করে বর্বরতা ছড়িয়ে যাচ্ছে একটি সুনির্দিষ্ট পক্ষ। দ্বীন ইসলাম কায়েম, জিহাদ, মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থা বেশ পরিচিত শব্দ।

কিন্তু ধর্ম কি সবসময় শান্তি স্থাপন করে?

দ্বীন ইসলামের অনুসারীরা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম চায়। বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলাম, খেলাফতে মজলিশ এমন অসংখ্য রাজনৈতিক ব্যানারে ধর্মীয় কুশীলবরা একত্রিত হয়েছে। আকীদাগত ভিন্নতা আছে। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও বেশ প্রবল। উদ্দেশ্য অভিন্ন; খেলাফত প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ভিন্নতা আছে পদ্ধতিগত।

দ্বীন ইসলামের নামে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থার কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। ধর্মের আইন চাপিয়ে দেওয়া এক ধরনের বর্বরতা। এমন বর্বরতা নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সময়ও দেখা গিয়েছে, যা ইসলামের ইতিহাস থেকে পাওয়া যায়। ইসলাম প্রচারের জন্য জিহাদের নামে বিভিন্ন সম্প্রদায় ও গোত্রের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া। এবং যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার পর যুদ্ধে বন্দিনী নারীদের গণিমতের মাল হিসেবে ভোগ করা। এসব নারীদের একটি ঋতুচক্র পর্যন্ত অপেক্ষা করে যখন নিশ্চিত হওয়া যায়; এ নারী গর্ভবতী নয়; সম্মতি না থাকা সত্ত্বেও এসব নারীদের যৌন সঙ্গী হিসেবে ধর্ষণ করা। বাজারে দাসী হিসেবে বিক্রি করা। ইসলামে এমন বর্বরতার জায়গাগুলো সমর্থনযোগ্য নয়। যেগুলোর গঠনমূলক সমালোচনা করা যায়। 

নবী মুহাম্মদ (সা.)-এরও ছিল দুজন যৌন দাসী। যৌনতাকে বিদ্রূপাত্মকভাবে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু যখন এটি কাউকে বাধ্য করে করা হয়, এটি অন্যায়।

পৃথিবীর যেকোনো ধর্ম, কোনো গ্রন্থ সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। ইতিহাসের মানুষ, তাদের জীবন, শিক্ষা, রাজনীতি, নৈতিকতা—সবকিছুর বিচার হওয়া উচিত যুক্তি ও মানবাধিকারের আলোকে।

এই যে বর্তমানে ইসলামী উগ্রবাদী শক্তি জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ও সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকায়। এ দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে গত দেড় দশকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে নারীদের নির্বিচারে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে অনেক নেতার ফাঁসি ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। জামায়াতের এসকল ধর্মের রাজনৈতিক নেতাদের বীর্যে নারী সমাজ ধর্ষিত হয়েছে। ব্যাভিচারে এমন একটি দল বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন কিভাবে দেখতে পারে? 

একই সঙ্গে যদি ইসলাম ধর্মের প্রচারক নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর দিকে তাকাই; উনি মাত্র ৬ বছর বয়সের নাবালিকা শিশু আয়েশাকে ধর্মের দোহাই দিয়ে বিয়ে করেন। নিজের ইচ্ছা-অনিচ্ছা পরিপূর্ণ করেন। বিয়ের নামে ধর্ষণ করেন। যা বাংলাদেশে যদি কেউ বর্তমানে এমন অপকর্ম করে; এটি স্পষ্টই বাল্যবিবাহ এবং নারী ও শিশু সুরক্ষা আইন ২০০০-এর লঙ্ঘন। এর জন্য তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

ধর্ম তার নিজস্ব গতিতে চলবে। উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ ও চরমপন্থা কিংবা রাষ্ট্রধর্মের নামে, শরিয়াহ আইনের নামে কোনো আইন চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। ভিন্ন মত, ভিন্ন ধর্ম ও ভিন্ন যৌন পরিচয়ে স্বাধীনভাবে রাষ্ট্রে বসবাস করার অধিকার সবার। রাষ্ট্রের কোনো ধর্ম নেই। রাষ্ট্র সকল মানুষের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *