কওমি মাদ্রাসা: জবাবদিহিতা, নিরাপত্তা ও নীতিমালার জরুরি প্রশ্ন
৯৩% মুসলমানের দেশে একজন ধর্মের আলেম যখনই মনে করেন, তখনই একটি মাদ্রাসা খুলে বসেন। বিশেষ করে কওমি মহিলা মাদ্রাসাগুলোর অবস্থান বেশ নেতিবাচক। এগুলোতে নারী নির্যাতনসহ যৌন নিপীড়নের ঘটনাগুলো নিত্যনৈমিত্তিক।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কওমি মাদ্রাসা স্থাপন ও পরিচালনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে এসব মাদ্রাসা স্থাপন করা হচ্ছে। এমনকি একই ভবনে একাধিক মাদ্রাসার সন্ধানও পাওয়া যায়, যেগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো সংস্থা নেই।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় শিশু বলাৎকার, নারী শিশু ধর্ষণসহ একাধিক ঘটনার খবর। এবং এসব নারকীয় ঘটনাপ্রবাহের বেশিরভাগই বিভিন্ন আবাসিক মাদ্রাসাকেন্দ্রিক। মাদ্রাসায় মুসলিম পরিবারগুলো তাঁদের সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে উৎসাহ বোধ করে। কিন্তু সারাদেশে শিশু ধর্ষণ/বলাৎকারের ঘটনায় মাদ্রাসাগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই মুহূর্তে মাদ্রাসাগুলোতে বোধহয় কোনো ছাত্রই শারীরিক ও মানসিকভাবে অক্ষত নেই।
শুধুমাত্র ধর্মের নামে মাদ্রাসাগুলোতে ধর্মের আলেমরা অবাধ যৌনাচারে লিপ্ত হচ্ছে। এটি ইসলাম সম্পর্কে, ধর্ম সম্পর্কে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করছে। মাদ্রাসাগুলোকে পতিতালয়ে পরিণত করেছে ধর্মের নামে মৌলবাদী গোষ্ঠীরা। মাদ্রাসাপড়ুয়া এসব শিক্ষার্থীরা এক ধরনের ভয় ও মানসিক স্থবিরতার মধ্য দিয়ে বড় হচ্ছে। এ ধরনের মাদ্রাসাগুলো বন্ধে সরকারের উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রয়োজন সদিচ্ছার।
এছাড়াও মাদ্রাসাগুলো সারাদেশে জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থার জন্ম দিচ্ছে। ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলো ধর্মকে পুঁজি করে বিপথগামী করছে এ দেশের তরুণ সমাজকে। এছাড়াও ধর্মকে সামনে রেখে পুরুষের অবাধ যৌনতা এবং নারীদের প্রতি বিদ্বেষ উৎপাদন করছে এ মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা। এবং মাদ্রাসাগুলো জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার অভয়ারণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
বাংলাদেশে ইসলামী মৌলবাদীদের দেশের যেকোনো ইস্যুতে বিশাল মিছিল নিয়ে কলেমাখচিত হাতে রাস্তায় নেমে আসতে দেখা যায়, স্লোগান দিতে দেখা যায়। কিছু মাদ্রাসায় এসব বলাৎকার, ধর্ষণের পরও দেশে শরীয়াহ আইনের বাস্তবায়ন চাওয়া এসব মোল্লাদের রাজপথে দেখা যায় না কেন? নাকি ধর্মের নামে মাদ্রাসাকে বেহেশতি হেরেমখানা বানিয়ে আল্লাহর নামে ধর্ষণ জায়েজ?
মাদ্রাসাগুলোতে বলাৎকারের মতো বেশিরভাগ ঘটনাই অপ্রকাশিত থেকে যায়। পায়ুকামী এসব ধর্মের আলেমদের অত্যাচারে বহু শিশু আত্মহত্যা করে নীরবে নিভৃতে। জিহাদি জোশ কি শুধু ভিন্ন মত, ভিন্ন ধর্মের, ভিন্ন গোত্র ও ভিন্ন যৌন পরিচয়ের মানুষের উপর?
মাদ্রাসাগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে বন্ধের উদ্যোগ প্রয়োজন। মাদ্রাসা মানেই ইসলাম নয়। মাদ্রাসা মানেই ধর্ম নয়। এসব মাদ্রাসার নামে যৌন নির্যাতনের সেলগুলো বন্ধ করা গেলেই ধর্মের নামে মৌলবাদ, উগ্রবাদ ও চরমপন্থারও বিস্তার ঠেকানো সম্ভব।
