গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ ও মৌলবাদের আশঙ্কা (পর্ব-২)
প্রথম পর্বের পর…
ইসলাম এমন একটি ধর্ম, যেখানে সকল বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী ও সংশয়বাদীদেরও নিরাপত্তা এবং অধিকারকে সুসংহত করা হয়েছে। কিন্তু একটি প্রতিক্রিয়াশীল ধর্মান্ধ গোষ্ঠী ইসলামী চরমপন্থার মধ্য দিয়ে নারীর স্বাধীনতা, ভিন্ন মত দমন, এলজিবিটিকিউ+সহ ভিন্ন যৌন পরিচয়ের মানুষদের ওপর আগ্রাসী হয়ে উঠছে। সে সকল মানুষের জীবনের নিরাপত্তাসহ ইসলাম সম্পর্কে এক ধরনের ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করছে এবং ধর্মকে সকল ক্ষেত্রে আক্রমণকারী হিসেবে উপস্থাপন করছে।
ধর্মের নামে মানুষ হত্যা করে কি বেহেশতে যাওয়া যায়? নিরপরাধ মানুষকে হত্যা কোনো ধর্মেরই উদ্দেশ্য বা আদর্শ হতে পারে না।
অমুসলিমরা চিরস্থায়ীভাবে দোজখের অধিবাসী, ইহুদিরা অভিশপ্ত, খ্রিস্টানরা নিকৃষ্ট, কিংবা মূর্তিপূজারি, সমকামী বা ইসলামত্যাগীদের হত্যা করা বৈধ—সেই উগ্র ও সহিংস ব্যাখ্যাই ইসলামী চরমপন্থা ও মৌলবাদের অন্যতম ভিত্তি। এই ধরনের ঘৃণা, অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার আদর্শ ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্র—সবার জন্যই ক্ষতিকর।
বাংলাদেশকে কোনোভাবেই ধর্মীয় উগ্রবাদ ও মৌলবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। দেশে যে মৌলবাদী প্রবণতার উত্থান ঘটেছে, তা মোকাবিলায় রাষ্ট্রের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলোরও কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বিএনপিসহ সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তির উচিত এ বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া এবং উগ্রবাদের বিস্তার রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
মৌলবাদ ও উগ্রবাদ শুধু রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতাই নয়, পবিত্র ইসলাম ধর্মের শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার প্রকৃত শিক্ষাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ইসলাম শান্তি, সহনশীলতা, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদার ধর্ম; তাই ধর্মের নামে ঘৃণা ও সহিংসতার কোনো স্থান ইসলামের প্রকৃত শিক্ষায় নেই।
